top of page

Our Recent Posts

Tags

27/4 Clause Remove/Amend আন্দোলন - Jagannath University 2010-2011

27/4 Clause Remove/Amend আন্দোলনের পুরো ঘটনা এখানে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো->>

 

  • >>>আন্দোলনের কথা শুরু করার আগে আন্দোলনের কারণ যে আইনসমূহ, সেইগুলো নিশ্চই জানা দরকার?? চলুন, আমরা আইনগুলো জেনে নিই==>

 

"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে যা আছে"

Sun, Sep 25th, 2011 7:18 pm BdST

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পঞ্চম বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উৎস হতে বহন করার বাধ্যবাধকতা রেখেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রনয়ণ করা হয়।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ এর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন ব্যয় ও ছাত্র বেতনাদি সংক্রান্ত ২৭ (৪) ধারায় বলা আছে, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হইবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃপৌনিক ব্যয় যোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বছর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়েল নিজস্ব আয় ও উৎস হইতে বহন করিতে হইবে।"

 

ধারা ২৭ (১) এ বলা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের (মূলধন ব্যয় ব্যতিরেকে) নিরিখে প্রতি বছর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য বেতন ও ফিস নির্ধারিত হবে।

 

ধারা ২৭ (২) এ বলা আছে, সেমিস্টার অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও ফিস সেমিস্টার শুরু হবার আগেই পরিশোধ করতে হবে।

 

ধারা ২৭ (৩) এ বলা আছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে প্রণীত প্রকল্প ব্যয়ের অন্যূন ১৬ শতাংশ অর্থ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল হতে যোগান দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হবে।

 

এছাড়া ধারা ২৭ (৫) এ বলা আছে, সরকার বা অন্যান্য বৈধ উৎস হতে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় হতে প্রয়োজনের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বা ক্ষেত্রমতে উপবৃত্তি প্রদান করতে পারবে।

 

 

  • >>> তো, আন্দোলনের সূচনা হয় পত্রিকায় প্রকাশিত এই খবর পড়ার সাথেসাথেই..=>

 

প্রথম আলোঃ

                 "জগন্নাথ, নজরুল ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তিন বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি নয় "

রিয়াদুল করিম | তারিখ: ২৫-০৯-২০১১

 

দেশের তিনটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ করার শর্তে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটা সম্ভব নয়। আর ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট ১০ বছর মেয়াদ পূরণ করার আগেই বলছে, আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করে আসছিল, আয় থেকে ব্যয় চালানোর ধারাটি সংশোধন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রস্তাব পাঠিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, এসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটের বেশির ভাগ অর্থ দেয় সরকার। কিন্তু আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। এভাবে চলতে পারে না। তাই নিজস্ব আয় থেকে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সমস্যার মধ্যে আছে। কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের (২০০৫) ২৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় যোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বৎসর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উৎস হইতে বহন করিতে হইবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৬) এর ২৭(৩) এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৬) এর ২৭(৩) ধারায়ও একই কথা বলা আছে। তবে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সময় দেওয়া আছে ১০ বছর করে। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় তিনটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া শুরু করে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই নিজস্ব আয় বাড়াতে শিক্ষার্থীদের বেতনসহ বিভিন্ন ফি বাড়ানো হয়। সে সময় ফি বাড়ানো গেলেও পরে তা কার্যকর থাকেনি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় তিনটিতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে বেতন কমানো হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পৌনঃপুনিক ব্যয় না কমিয়ে বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর প্রথম বছর ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বরাদ্দ ছিল এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, আর ২০০৮-২০০৯ সালে মোট মঞ্জুরি দেওয়া হয় নয় কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে পৌনঃপুনিক মঞ্জুরি দেওয়া হয় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৪ লাখ টাকা। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে পৌনঃপুনিক মঞ্জুরি দেওয়া হয় দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা।

২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০০৮-২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য পৌনঃপুনিক মঞ্জুরি দেওয়া হয় নয় কোটি ৩০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের প্রধান উৎস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ফি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের পক্ষে উচ্চ ফি দেওয়া সম্ভব নয়। বেতন-ভাতা বাড়াতে গেলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়।

প্রথম প্রকল্প ব্যর্থ: ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন করে নিজস্ব আয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর প্রকল্প নেওয়া হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে তাদের সে সময় পার হচ্ছে। পাঁচ বছরে নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে পুরো ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা অর্জন দূরের কথা, দিন দিন আয় কমছে বিশ্ববিদ্যালয়টির।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৪৩ ভাগ জোগান দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৪৫ শতাংশ জোগান দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরের বছর মোট বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনেক কমে যায়। গত অর্থবছরে মোট বাজেটের মাত্র ৩০ শতাংশের জোগান দিতে পেরেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। আর চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের মাত্র ২৭ শতাংশ জোগান দিতে পারবে বলে ধরা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. শওকত জাহাঙ্গীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বাড়ছে না, বরং কমছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের একমাত্র উৎস শিক্ষার্থীদের দেওয়া বিভিন্ন ফি। সনাতন পদ্ধতির (কলেজ থাকাকালে) শিক্ষার্থীরা এখন বের হয়ে যাচ্ছে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে তখন শিক্ষার্থী ছিল ৩০ হাজার। এখন নেমে এসেছে ২১ হাজারে। আর দুটি ব্যাচ আছে, সেগুলো চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবে ১৭ হাজার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় আরও কমে যাবে। এই অবস্থায় সরকারি মঞ্জুরি না পেলে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

শওকত জাহাঙ্গীর আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন শিক্ষার্থীদের বছরে ব্যয় করতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। যদি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুদান বন্ধ করে দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে অন্তত ২০ হাজার টাকায় এবং ফি বছর ওই ব্যয় বাড়বে।

উপাচার্যদের কথা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নিজস্ব আয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চলবে, এটি অসম্ভব। তিনি এটাকে অবাস্তব, অর্থহীন প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ১০০ টাকা ফি বাড়ালেই ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সেখানে কয়েক হাজার টাকা ফি বাড়ানো হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যাবে।

কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে এটি হলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো সম্ভব হবে না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমির হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের যে অবস্থা, তাতে ১০ বছরের মাথায় নিজস্ব আয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে না।

 

 

 

  • >> এরকম একটি খবর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে, তা জগন্নাথ / কাজী নজরুল / কুমিল্লা বিস্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে কিনা, সন্দেহ। সুতরাং আন্দোলন একটা হবে, এটাই স্বাভাবিক এবং হলো-ও তাই..---->

 

ছাত্র অধিকার আন্দোলন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নেয় নাই । ২৭ এর ৪ ধারা বাতিলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা আন্দালন করছেন । কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ এর ৩ ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ২৭ এর ৩ ধারা অনুরুপ । এতে বলা হয়েছে সরকারী বরাদ্দ বন্ধ করা হবে বিনিময়ে এই অর্থ তোলা হবে শিক্ষার্থীদের কাছ খেকে । অনুদান বন্ধ করে দিলে শিক্ষার্থীদের ব্যায় বেড়ে দাড়াবে ২০ হাজর টাকা এবঙ ক্রমান্বয়ে তা বাড়বে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যারয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এক যোগে আন্দোলন করুন...

 

 

 

  • >>> এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নেমে পড়ে রাস্তায় এবং শুরু করে সক্রীয় আন্দোলন। আমাদের ৫ম ব্যাচের জন্য নেতা মিজানুর মাহি ও পাভেল রহমান তাদের বক্তৃতা দিতেও ভোলে না....---->

 

পাভেল রহমান=

                                                       "একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমৃত্যু"

 

দামি গাড়ি ট্যাক্স ছাড়া পাই আর শিক্ষা কিনি টাকা দিয়ে!!!

আই এম এফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেস্কিপশন অনুযায়ী "ছাত্রদের টাকায় চালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়" এমন অদ্ভুত ও হাস্যকর ধারনা নিয়ে ২০০৫ সালে গঠিত হল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কোন রকম অবকাঠামোগত উন্নতি ও পরিবর্তন ছাড়াই একটি কলেজের নামের সাথে জুড়ে দেয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়। সাথে ২৭ (৪) ধারা নামক সেই অদ্ভুত আইন, যাতে বলা হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় যোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বৎসর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উৎস হইতে বহন করিতে হইবে।

শুরু থেকেই নানা রকম সমস্যা নিয়ে চলতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি; শিক্ষক, ক্লাশ রুম, লাইব্রেরি, আবাসন, খেলার মাঠ, ক্যন্টিন, পরিবহন সহ আরো অনেক সমস্যা। সাথে যোগ হল কলেজ থাকাকালীন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং সেশন জট। কোন সরকারের ই মনে হয়নি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন

এত সব সমস্যা নিয়েও এগিয়ে চলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে সব সমস্যা থেকে। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী অবতীর্ন হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে। গত বছর প্রতি আসনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫৪ জন শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এগিয়ে নিচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। এটি বোধ হয় পৃথিবীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার ১২ টি হল থাকা সত্বেও কোন ছাত্র থাকতে পারে না; থাকে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা আর এলাকার প্রভাবশালী লোকজন।

শত অবহেলার মাঝেও বেচে আছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন জানতে পারল যে সরকার তাদের আর কোন অনুদান দেবে না, তাদের সেমিষ্টার ফি হবে ২০,০০০ টাকা তখন তারা রাস্তায় নামে। প্রথমেই ভাংচুরের ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর বলে রাখছি শিক্ষার্থীরা কোন পথচারীকে মারধর করে .. করেছে পুলিশ। একটু ভাবুন ছাত্ররা সকাল ১১টায় সদরঘাট থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব আসলো, ৪ ঘণ্টা অবরোধ করল কিন্তু কোন ভাংচুর হল না। আমি পুলিশ কে ওয়াকিটকিতে বলতে শুনেছি " স্যার ছাত্ররা তো কোন উস্কানিমুলক কিছু করছে না, চার্জ করব কিভাবে?" হয়ত বলবেন ছাত্ররা অন্য আন্দোলন করতে পারত রাস্তা অবরোধ কেন করল? ৫ বছর ধরে বিভিন্ন দাবিতে ছাত্ররা ক্যম্পাসে আন্দোলন করেছে। কপালে জুটেছে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশের লাঠি পেটা, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠনের নির্যাতন। এ খবর গুলো কেউ জানেন না কারন এসব খবর চ্যানেল গুলোর টি আর পি বাড়ায় না। ৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট বন্ধ করে যে নির্যাতন চলেছে তার থেকে মুক্তি পেতেই আজ ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে।

 

... সম্পুর্ন শান্তিপুর্ন অবস্থানে উপাচার্য ও ছাত্রলীগের সভাপতি চলে যাওয়ার পর শুরু হয় পুলিশি নির্যাতন, জানি না কার নির্দেশে। সেই হামলায় কিন্তু কেন্দীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও তাদের পারফরম্যান্স দেখায়। তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা কিছু ভাংচুর চালায়। আমরা কখনোই এটা সমর্থন করি না এবং আবার ও ক্ষমা প্রার্থী।

আপনি একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে বানাতে পারেন, নতুন বিমানবন্দর বানাতে পারেন কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের শিক্ষার জন্য টাকা দিতে পারেন না, হায়রে সরকার হায়রে দেশ।

মাননীয় অর্থ মন্ত্রী, শেয়ার বাজার বাচাতে পারেন না, রাস্তা ঠিক করতে বরাদ্ধ দিতে পারেন না, তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ানো লাগে, বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা দিতে পারেন না; এত টাকা কই যায়? কেন দরকার আপনার এত টাকা? টুইন টাওয়ার বানাবেন নাকি সুইস ব্যংকের হিসাব ভারী করবেন?

তাহলে কি ফ্লাইওভার গুলোর মত উচ্চ শিক্ষাও বড়লোকদের জন্য লিখে দিচ্ছেন?

 

সময় হয়েছে আসুন রুখে দাড়াই, অন্তত শিক্ষাকে টাকার অংকে পরিমাপের পন্য হতে না দেই। যারা অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তাদের বলছি, আপনাদের অবস্থাও যে একদিন এমন হবে না এর কোন নিশ্চয়তা আছে কি?

 

শিক্ষা কোন পন্য নয়, শিক্ষা আমার অধিকার।

"শিক্ষা কোন পন্য নয়, শিক্ষা আমার অধিকার।" - - এই কথাটির কোন মূল্যই এখন আর নেই "শিক্ষা একটি বিলাসবহুল পন্য, এই শিক্ষা আমার নয়।"--এই এখন যথার্থ । . . . ছাত্রদের টাকায় চালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় - - আসলেই অদ্ভুত ও হাস্যকর ধারনা । শিক্ষার জন্য সরকারের টাকা থাকবে কেন থাকবে তো মন্ত্রী-এমপি দের ট্রাক্স ফি গাড়ির জন্য, থাকবে নতুন নোট আর নাম পরিবর্তনের জন্য । তাই তো তারা জবি, কুবি আর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা দিতে পারবে না । আর, পিপিপি এর নামে বিদ্যমান অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিষ্টার ফি বৃদ্ধি হচ্ছে আর আন্দোলনে মিলছে পুশিলের আর সরকার দলের ছাত্রনেতাদের নির্যাতন ।

 

সত্যিই সেলুকাস . . . বড় বিচিত্র এই দেশ ।

আসলেই সেলুকাস . . . মাঝে মাঝে বেচে আছি এটা ভেবেই শুক্রিয়া আদায় করি

আমরা ফকিরনির পোলা মাইয়া । ওদের ছেলে মেয়েরা ভারত আর আমরিকায় পড়েন । ওদের আমাদের কথা ভাবার সময় নেই । আর আমাদের কল্যাণের চিন্তাও নেই । আমরা ওদের কাছে কুরবানীর জন্তুর মতো ।

আসলে আমাদের পড়ালেখার জন্য টাকা দিলে তো ওনাদের দামি গাড়ি, বিদেশ ভ্রমন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা বলির পাঠাঁ

 

বাংলাদেশে পাবলিক(?!) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তে দিতে হবে সেমিস্টারপ্রতি ২০০০০ টাকা। এটা কি প্রাইভেট নাকি পাবলিক ইউনিভার্সিটি?

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪৮

 

লেখক বলেছেন: এটা হবে ছাত্রদের টাকায় পরিচালিত সরকারের পোদ্দারি করার জায়গা। নতুন নোট ছাপানর টাকা আছে কিন্তু ছেলেপেলেদের পোড়ালেখা শেখানোর টাকা নেই। এখন ই ৩০০০ করে দেই ১মাস পরে ২০০০০ করে দেব আর কি…

 

 

 

  • >>> তারপর আর কি??!! যা কিছু আছে, তাই নিয়েই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল রাস্তায় এবং ফলাফল হলো এইরকম.....----->

 

                "জবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান: শিক্ষামন্ত্রী"

Written by Jagannath University News

Sunday, 25 September 2011 15:23

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭ (৪) ধারা বাতিলের দাবিতে রোববার প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। এতে পুরো এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ১০ জনকে আটক করে।

হাজার খানেক শিক্ষার্থী রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন,

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, মঞ্জুরি কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

জানা গেছে, হাইকোর্ট ও জাতীয় প্রেসক্লাবের মাঝখানে সড়ক দ্বীপ কদম ফোয়ারার সামনের রাস্তায় অবস্থান নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। ধাওয়া খেয়ে ছাত্ররা বিভিন্ন দিকে ছুটতে শুরু করেছে। এদের একটি গ্রুপ মৎস্যভবন, একটি পল্টন, অন্যটি দোয়েল চত্বরের দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এর মধ্যে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা ভিশনের একটি গাড়ি রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে রুবেল, রব্বানি, বিপুল আশিক, মিঠুন ও সোহাগসহ ১০ ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।

তাদেরকে জিরো পয়েন্টের আইল্যান্ডে বেঁধে রাখা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা গাড়ি ভাঙচুর করতে করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দিকে চলে যায়।

রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও তা ফের চলা শুরু করেছে।

এর আগে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আসার পথে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অবস্থানকালে তাদের অন্তত ১৫ জন সহপাঠী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর আগে ২৭(৪) ধারা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে রোববার সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্টের সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় শাহবাগ, দৈনিক বাংলা, বঙ্গবাজার এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভের কারণে আটকা পড়েন ময়মনসিংহ-৬ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় পুলিশ তার গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা উল্টো ওই সাংসদের গাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।

তার গাড়িতে থাকা কিবরিয়া জানান, সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে যাচ্ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা বলেছিলো, শিক্ষামন্ত্রী এসে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।

তারা একই শর্ত দিয়েছিল, সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমেদকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিভিন্নভাবে তাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন নিজান বলেন, ‘এভাবে কোনও আন্দোলন হয় না, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।’

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ এসেও শিক্ষার্থীদের আদের অবস্থান থেকে সরাতে না পারলে পুলিশি অ্যাকশান শুরু হয়।

এর আগে রোববার বেলা পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর একটি মিছিল ক্যাম্পাস ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

শিক্ষার্থীরা এ সময় ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

মিছিল থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ পাপ্পু (রসায়ন), শুভসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে।

এ সময় পুলিশ তাদের প্রচণ্ড মারধোর করতে করতে গাড়িতে তুলে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান বলেন, ‘ভাঙচুরের সময় হাতেনাতে তাদের ধরা হয়েছে।’

 

 

  • >>> কিন্তু আন্দোলনের সময় ছাত্ররা আসলে তেমন কিছুই করেনি বলে আনা যায় প্রত্যক্ষদর্শী মাহির বক্তব্যে==>

 

Mizanur Mahi

 "Aj amra shanti-purno andolon korsi but POLICE amader upor lathi charge korse, amader University'r 27 jon-k atok korsa, amar hat-paa dia blood ber hoisa- tomra ki er kono protibad korba na ?

 Amar baba'r pokhe per smstr 20000tk deoa possible na, tomra jodi dita paro tahola alada kotha. R er poreo jodi hat-a churi pora bosha thako tobe r ki bolbo !

Aj khub valo lagsa ja, amader ai achomka andolon-er vitor finance 5th batch-er onekei silo. Ai andolon cholba jotokhon amader beton normal na hoba.

Kal doa kora kew versitir vitor jaba na but

shokal 8.30-er modha RAISA Bazar(university dhokar rastar mathai) mor-a sela-maya shobai ashba.

Amra shanti-purno vabe amader dabi janabo.

Amader shathe pura versitir shob student ase, kal pura versitir kono class hoba na.

Er poro jodi amra 5th batcher shobai(sele-maya) join na kori, toba sha sha individual vabe daie thakba.

R thnx to Pavel for keep updating everyone.

Aj rat-a pavel shob group-er leaderder_k tader grouper shobai-k kal protibad-a join kora confirm korba, so shobai individual future chinta kora join korba asha kori..."

 

 

 

  • >> আর অপর দিকে শিক্ষামণ্ত্রী এ কী বললেন?? শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেন তিনি এই কথা বলে=>

 

মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ:এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, মঞ্জুরি কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

আইন পরিবর্তন করা হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না আইন পরিবর্তন হবে কি না।

কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।

শিক্ষার্থীরা বলছে, আগে তাদের সেমিস্টার ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থাকলেও অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে গিয়ে এখন তা ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি উড়িয়ে দিচ্ছি না, শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে, এজন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।”

তবে ভাংচুর করা ছাত্রদের ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের অর্থ নষ্ট করে কিভাবে আবার জনগণের কাছে থেকেই অর্থ চাওয়া যায় উল্লেখ করে ছাত্রদের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ যাদের গাড়ি ভাংচুর হলো তারাই বা কি বলবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এ ঘটনা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রদের পক্ষ হয়ে ভাংচুর হওয়া গাড়ির মালিকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সরকারি (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু সরকারের অর্থে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের নিজেদেরও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

 

 

 

  • >>> যাই হোক, ঘটনার ঘনঘটা, পরীক্ষা - ক্লাস আপাততঃ শিক্ষার্থীরা বন্ধ করেছে। যতক্ষণ দাবি না মেনে নিবে, ততক্ষণ আন্দোলন অব্যহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে..। আর পত্রীকায় ততদিন খবর ছাপা হবেই। যেমন---->

 

কালের কণ্ঠঃ

 জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করেন।

"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অবরোধ গাড়ি ভাঙচুরপুলিশের লাঠিপেটা"

জাতীয় প্রেসক্লাবের কাছে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্যের ও মন্ত্রণালয়ের গাড়িসহ প্রায় অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের হামলায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭ (৪) ধারা বাতিলের দাবিতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে হাইকোর্টের পাশে সড়কদ্বীপ কদম ফোয়ারা পর্যন্ত এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, আইনের ওই ধারা কার্যকর করতে গিয়ে সেমিস্টার ফি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রায় তিন ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। একপর্যায়ে এক সংসদ সদস্যের গাড়ি আটকে ফেলেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা। সেই সংসদ সদস্যকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। শিক্ষার্থীদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে ওই সংসদ সদস্যকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্ররা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা দাবি জানান, শিক্ষামন্ত্রী হাজির হয়ে তাঁদের ২৭/৪ ধারা বাতিলের আশ্বাস দিলেই তাঁরা অবরোধ সরিয়ে নেবেন, অন্যথায় নয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের চারদিক থেকে ঘিরে রাখেন কয়েক শ পুলিশ। সেখানে র‌্যাব সদস্যদেরও দেখা যায়।

 

এদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বে কেউ না থাকায় পুলিশ কার সঙ্গে কথা বলবে তা খুঁজে পাচ্ছিল না। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে খালি গায়ে আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁদের একজনের পিঠে ও বুকে লেখা ছিল_'২৭(৪) ধারা মানি না'। শিক্ষার্থীরা ২৭(৪) ধারা বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া হলগুলো উদ্ধার, গ্রন্থাগার স্থাপন, পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, ২৭/৪ ধারা কার্যকর হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হয়ে যাবে। অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে চালানোর দাবি জানান তাঁরা। শফিক নামের এক শিক্ষার্থী জানান, আগে সেমিস্টার ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা থাকলেও অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে গিয়ে এখন তা ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আইনের ওই ধারাটি সংশোধনের জন্য আমরা দুই বছর মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মন্ত্রণালয়ও ইতিবাচক ছিল। গতকালও মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। তাঁরা জানান, ২৭(৪) ধারা নিয়ে সন্তোষজনক পর্যায়ে পেঁৗছবেন বলে ভাবছেন।

'

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অশোক কুমার সাহা বলেন, 'আমরাও চাই এই ধারা সংশোধন করা হোক। কিন্তু একটি মহল ২৭(৪) ধারাকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের কাজে ঠেলে দিচ্ছে।

'

ছাত্রদের লাঠিপেটার বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের বলেন, 'শিক্ষার্থীদের বারবার বোঝানো হলেও তাঁরা রাস্তা ছাড়ছিলেন না। তাঁদের বলা হয়েছিল, আপনারা ক্যাম্পাসে ফিরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন। কিন্তু তাঁরা উল্টো গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তৎপর হয়।

'

২৭(৪) ধারায় যা আছে : ২০০৫ সালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় জোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বৎসর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উৎস হইতে বহন করিতে হইবে।

'

গাড়ি ভাঙচুর : শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। দুপুর ১২টায় কদম ফোয়ারার দিকে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন তাঁরা। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভিসি সেখানে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য বাড়তি টাকা দিতে হবে না বলে আশ্বাস দেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ আশ্বাসকে মূল্যহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। দুপুর ২টা পর্যন্ত চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান ভিসি। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে দু-তিনজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় কিছুটা দূরে। ওই সময় পুলিশ মারমুখী ভঙ্গিতে অবতীর্ণ হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাঁরা স্লোগান দিতেই পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েক শ শিক্ষার্থী হাইকোর্টের দিক দিয়ে সচিবালয়ের দিকে গিয়ে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। অন্তত ৫০টির মতো গাড়ি ভাঙচুর করেন তাঁরা। সেখান থেকেও কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে পুলিশ। অন্যরা যে যার মতো চলে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোনো গুলি বা টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়নি।' দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ পল্টনের দিকের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। মতিঝিল থেকে শাহবাগগামী গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয় নয়াপল্টনের দিকে। একইভাবে মৎস্য ভবন এলাকায় প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়া গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। ফলে ওই এলাকার যানজট পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে দুপুর আড়াইটার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুই ঘণ্টা আটকে থাকেন সংসদ সদস্য : শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করার সময় মৎস্য ভবনের দিক থেকে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৪৭৫২) করে যাচ্ছিলেন সচিবালয়ের দিকে। দুপুর ১২টার দিকে গাড়িটি জাতীয় প্রেসক্লাবের পাশে কদম ফোয়ারা অতিক্রমের আগেই শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরে গাড়িটি আটকে ফেলেন। পরে গাড়ির সামনে ও পেছনে ১৫-২০ জন ছাত্রী বসে পড়েন। একপর্যায়ে সংসদ সদস্য নেমে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষার্থীরা 'শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না' বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একসময় সংসদ সদস্য আর কিছু না বলে গাড়িতে গিয়ে বসে থাকেন। আর তখন তাঁর সাদা গাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থী মার্কার পেন দিয়ে লিখে রাখেন 'চুরির টাকায় কেনা গাড়ি'। পুলিশ ছাত্রদের ওপর হামলা চালানোর সময় ছাত্ররা সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনের কাচে ঢিল ছুড়ে ভেঙে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ভিসির প্রতি আস্থা নেই : দুপুর সোয়া ১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনাস্থলে হাজির হন। ওই সময় শত শত শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরেন। মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি এটি। তবে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আমি আশ্বস্ত করছি শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়বে না।' ভিসি এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা 'ভুয়া ভুয়া' বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'এর আগেও অনেক আশ্বাস শুনেছি, কোনোটিরই কাজ হয়নি। এবারও আপনি মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী এসে আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।' ভিসি আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে কদম ফোয়ারা বেদিতে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের ডাকতে থাকেন কথা শোনার জন্য। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভিসির কথায় কর্ণপাত না করে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলন দমাতে মরিয়া ছাত্রলীগ : আন্দোলনের সময় ভিসির পাশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেখা যায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের পুলিশকে দেখিয়ে দিতে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা শিক্ষার্থীদের অন্দোলন থামানোর জন্য ধমকও দেন। এমনও দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ছাত্রদের না বুঝিয়ে জোর করে অন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে এক শিক্ষক এক ছাত্রের শার্টের কলার চেপে ধরে বলতে থাকেন, 'চল ভিসি স্যার ডাকছেন। এইখানে নেতা হইতে এসেছিস।' পরে ওই শিক্ষার্থীকে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর হাত থেকে ছাড়িয়ে নেন।

 

শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের দিকে রওনা দেয়। ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা হাইকোর্ট ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সড়কদ্বীপ কদম ফোয়ারার সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শওকত জাহাঙ্গীর, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অশোক কুমার সাহা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা এইচ এম বদিউজ্জামান সোহা, সাইফুল ইসলাম আকন্দ, খন্দকার আরিফ, ওমর ফারুক, নিজামউদ্দিন, ওবায়দুল ইসলাম, মো. ইয়াসিন ও বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থল থেকে রুবেল, রব্বানী, বিপুল, আশিক, মিঠুন ও সোহাগ, সঞ্চয়, কাইয়ুম, মৃদুল, মাহমুদ, মাহবুবুর রহমানসহ ২০ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া সকাল ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আন্দোলনরত শুভ ও রসায়ন বিভাগের পাপ্পুকে আটক করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

 


 

  • >>> আন্দোলনের ২য় দিন (২৬/০৯/১১)------>

 

সকালে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুর করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ২৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

 

সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর রায়সাহেব বাজার-নয়াবাজার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সড়কে যানচলাচল বন্ধ যায়। ধোলাই খাল সংযোগ সড়ক ও ঢাকা-দোহার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

 

সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ লাঠি নিয়ে অবরোধকারীদের ওপর চড়াও হলে ছাত্রছাত্রীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধলে ইটের আঘাতে নজরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

 

বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবার স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয় ওই সড়কে।

 

এ সময় ২৪ জনকে আটক করা হয় বলে কতোয়ালী থানার ওসি সালাউদ্দিন জানান।

 

প্রক্টর ড. অশোক কুমার সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে বাধ্য হয়েছি আমরা।"

 

সড়ক থেকে সরে গিয়ে এরপর আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগ কর্মীরাও এ সময় আইনটি বদলের দাবিতে মিছিল করে। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে সবাইকে বুঝিয়ে আলোচনায় বসান।

 

১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ কলেজকে ২০০৫ সালে একটি আইনের মাধ্যমে পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। তবে আইনের ২৭ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, পাঁচ বছর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ভার তাদের নিজেদেরই বহন করতে হবে।

 

শিক্ষার্থীরা আইনের এ ধারাটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও সমর্থন রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- আইনের ২৭ (৪) ধারা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হলগুলো উদ্ধার, গ্রন্থাগার স্থাপন, পরিবহন সুবিধা বাড়ানো ইত্যাদি।

 

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমমর্মিতা দেখিয়েছেন। অবশ্য ভাংচুরের সমালোচনা করেছেন তিনি।

 

 

 

  • >>> যারা আন্দোলনে যায়নি, তাদের প্রতি অন্যদের ক্ষোভ এবং তার বহিঃপ্রকাশ......----->

 

Pavel Rahman:

Jara andolone join koro nai dore nibo tara 20000tk semister fee dite raji cila!!!!!!!!!!!Police r amn ottachar e o tmader kono prob nai?Amader class r bes koyekjon andolone injured hoice.$th batch theke vai ra arrest hoice ar amader batch r kicu polapan basai bose news dakce.Tahole jara kosto korlo tader jonno tmra ki korla???????Akta jinis mone raiko aj tmra nijeder safety r kotha cinta kore asla na to....Kal tmr bipodeo kau re pase paba na.And borolok ra semister fee komleo tmra kin2 20000 tk e diba:p

 

Mizanur Mahi:

Supar like. . . . . .

Amader 5th batch theke ka kar jonno koto tuku ki korta pare ta nijader kono prblm dekha dila bojha jai.

Aj amader blood ber hoice, onaka injured hoisa, onaka Jail-a thaksa--tate jokhon tomader kono kosto nai, temni tomader karo konodin matha fatleo amader kono chinta thakba na, mind it.

 

 

 

  • >>> তাছাড়া, আন্দোলনে শিবিরের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করে আমাদের আসিফ জানিয়েছে------>

 

Asif Hasan:

VC r CHATRO LEAGUE koi ata SHIBR r SHOMAJ TANTRIK CHATRO FRONT er kaj....MONJURI COMISSION r chairman koi " ai issue niya alochona hobe,then shongshode utthapon hbe, bill pass hobe then shuraha hbe tar aag porjonto ager boraddo krito taka diye cholbe" ora alochona koira jaibo r amra majhkhan diya shadharon shikkharti ra pora lekhar dik diya bash r police r dourani khaitasi

 

 

 

  • >>> ২৬/০৯/২০১১ সর্বশেষ পাওয়া খবরে শোনা গিয়েছে স্বান্তনার বাণী==>

 

"আইন সংশোধন হবে, আশা জবি উপাচার্যের

Mon, Sep 26th, 2011 9:57 am BdSt

 

অর্থায়ন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-ভাঙচুরের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহউদ্দিন বলেছেন, শিগগিরই আইনটি সংশোধন করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

 

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি তাড়াতাড়িই আইনটি সাংশোধন করা হবে।"

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগও এই মত বিনিময়ে অংশ নেন।

 

Pavel Rahman:

Aj news Daklam.Amader sob dabi naki mene nawa hoice.Semister fee barbe na.Jader arrest kora hoice tader ke charanor bebosta kora hobe.27(4) dara o batil kora hobe....

 

 

 

  • >>> সুতরাং, সাময়িকভাবে আন্দোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষার্থীরা, দাবি মানা না হলে আবার আন্দোলন নতুন রূপে শুরু হবে।---->

 

                                              "জবি: আলোচনার আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত"

Mon, Sep 26th, 2011 5:20 pm bdst

 

অর্থায়ন সংক্রান্ত আইন সংশোধনসহ অন্যান্য দাবি নিয়ে আলোচনার আশ্বাসের পর 'আপাতত' আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসব দাবিতে সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ-ভাঙচুর করার পর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা বসে।

 

ওই সভার পর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, "আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার বিকেলে গুলিস্তানের ইমপেরিয়াল হোটেলে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে।"

 

এই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখছি। তবে কাল আলোচনায় আশাব্যাঞ্জক কিছু পাওয়া না গেলে তাৎক্ষণিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

 

মতবিনিময় সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহউদ্দিন বলেন, "আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, তাড়াতাড়িই আইনটি সাংশোধন করা হবে।"

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং বদিউজ্জামান সোহাগও এই মত বিনিময়ে অংশ নেন।

 

 

  •         >>> যা-ই হোক, যেহেতু ফলাফল পাওয়া গেলোনা, আবার নতুন করে আন্দোলন সাজানোর পরিকল্পনা করা হলো.. আহ্বান আসলো পাভেলের কাছ থেকে==>

 

Pavel Rahman=

যারা প্ল্যাকার্ড বানাতে পারো, প্লিজ, নানা রকম স্লোগান দিয়ে প্ল্যাকার্ড বানাও, আগামিকালের মানব বন্ধনের জন্য। Atleast কালকে সবাই আসো... যারা মারামারি নিয়ে ভয় পাচ্ছো, তাদের বলি, কাল কোনো মারামারি হবেনা...।

Sajan Pashi

 বাসা থেকে বলেছে আন্দেলনে না যেতে...। ফেসবুক-ও ব্যবহার করতে দিচ্ছেনা। তবুও আমি অবশ্যই আন্দোলনে থাকবো। প্রোক্টর '**' রে পাইলে মাথা ফালাইয়া দিমু.....!!!

 

 

  •         >>> আন্দোলন যে ভালই চলছিলো, তা বোঝাই যাচ্ছিলো==>

 

 Pavel Rahman=

আজ সারাদিন অনেক পরিশ্রম গেলো। যারা আজ কষ্ট করে এলো, তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ করে আসিফ, জামান, প্রতীক, কবির, অনিক.. আর যারা এতো কষ্ট করে এতো রাত পর্যন্ত ছিলে, তোমাদেরকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত..। অনেকজনকেই আসার জন্য ফোন করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে শুধুমাত্র জিলানী এসেছিলো। তাকে বিশেষ ধন্যবাদ। আর মাহি ও নেতা পাভেলকেও ধন্যবাদ। মাহি অসুস্থ বলে আসতে পারেনি... কিন্তু অনেক করেছে,, কি আর করা!! 

 

 

  •         >>> কিন্তু একেবারে হঠাৎ করেই পাওয়া গেলো সেই মর্মান্তিক দুঃসংবাদ==>

 

Asif Hasan =

 আমাদের ভার্সিটির জন্য আজ শায়বাগে যে মানব বন্ধন হয়েছে,  সেখান থেকে আমাদের সাজন পাশি-কে পুলিশ আ্যারেস্ট করে নিয়ে গিয়েছে।

 

 

  •         >>>এইরকম একটা খবর পাওয়ার পর মাথা নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক, পাভেলেরও তাই হলো==>

  

পাভেল রহমান =

আমাদেরই ক্লাসমেটকে আ্যরেস্ট করে নিয়ে গেলো। আর যারা বাসায় বসে '**' ফালাইছো, তোমাগোরে আমার চেনা হয়ে গেছে। আজ অনেক কষ্ট পাইলাম। এই রকম পোলাপান দিয়ে দেশের আদৌ কি কোনো উন্নতি হবে???

 

 

  •         >>> আর ওদিক থেকে সাজনের এই আহাজারি শুনে আমার মতো অনেকেই চোখের পানি আটকে রাখতে পারেনি..>

  

Sajan Pashi =

 আমি বন্দি কারাগারে...!

Sajan Pashi =

 Mobil a charg nai kau samsung batery ano

 

 

  •         >>> ফলে, আমাদের দায়িত্ব, সাজনকে উদ্ধার করা... কিন্তু, কাজটা অতো সহজ না... সাজনের সাথে আমাদের কথোপকথন==>

 

আসিফ হাসান =

এখন ওকে ছাড়ানোর জন্য আমরা মাত্র ৭জন বসে আছি DU-তে। ৫ম ব্যাচের আর কেউ নাইঅ এখন ওকে ছাড়ানোর জন্য তোমাদেরকে দরকার। কিছু টাকাও লাগবে..!! যদি কারো সাহায্য করার সামর্থ থাকে, তো কিছু করো।.কারো যদি রাজনীতিক না পুলিশ বা অন্য কোনো উচ্চ পদের পরিচিত কেউ থাকে, যোগাযোগ করে ওকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করো...। প্লিজ, এটা আমাদের নৈতিকতার ব্যপার, আমাদের পুরো ভার্সিটির ব্যপার......

  

Pavel Rahman =

 সাজন দোস্ত, মাফ করে দিস? তোর জন্য আজ কিছুই করতে পারলাম না...ভেতরে ভেতরে আমি যে কী পরিমাণ কষ্ট পাচ্ছি, তা বুঝিয়ে বলতে পারবোনা.. .মাফ করে দিস। নিজেকে আজ অনেক অসহায় লাগছে।.. দোস্ত, শেষ কবে এতো কষ্ট পেয়েছি, জানিনা...

Sajan Pashi =

 Its ok frnd. Dont warry.

 

 

  •         >>> But it wasn't okey...!! কারণ, একটু পর আরো খারাপ সংবাদ পাওয়া গেলো==>

 

Anik Rezowan

 Kal jader police arrest korce tader akhono chara hoe nai. Akhon sokal 7 ta baje. Ektu por naki tader sobaike court e nie jaoa hobe.....

 

 

  •         >>> সাজনও জানতো, কি হতে যাচ্ছে==>

 

Sajan Pashi

 আগামিকাল আমাকে কোর্টে চালান করে দিবে...! জলদি কিছু কর..

    

 

 

  •         >>> তারপরও আমাদের সবার মনে একটু ভালো লাগলো এই ম্যাডামের বাণীতে=>

 

                                                  "মিছিল ছাড়া কোথায় দাঁড়াবে তারা ?"

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু

অক্টোবর ১, ২০১১

 

আজকে কোনো সংখ্যা দিয়ে, তথ্য দিয়ে, বা যুক্তি দিয়ে কিছু বলার তাগিদ অনুভব করছি না | আজকে অধিকার থেকে কিছু বলার তাগিদ অনুভব করছি | আজকে যখন লিখছি তখন শাহবাগ থানায় জীবনে প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র জেলখানার বারান্দায় রাত কাটিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে পরবর্তী ভোগান্তির সামনে দাড়ানোর | ভোগান্তি ছাড়া এখন কি আছে তাদের? যেই সমাজ ব্যবস্থায় বড় হয়েছে এই ছাত্ররা

সেই সমাজ তাদের শিখিয়েছে পড়ালেখা করতে হবে, নাহলে কর্মসংস্থান নাই | আর পড়ালেখা করতে হলে এখন টাকা লাগবে, নাহলে পড়ালেখা হবে না | কারণ আর সব ভোগ্য

পণ্যের মতই শিক্ষা এখন একটি পণ্য | যে শিক্ষা কিনতে পারবে শুধু সেই এখন পড়তে পারবে | এর বাইরে কেউ কিছু চাইলে তাকে যেতে হবে জেলখানায় |

 

জন্ম থেকেই শুনে আসছি সরকারের ফান্ডের ক্রাইসিস | টাকা নাই, টাকা নাই, কোথাও টাকা নাই | জনগণও সরকারের দারিদ্রের কথা শুনতে শুনতে সরকারের প্রতি দয়াশীল হয়ে সব কিছু মেনে নিচ্ছে | কিন্তু সবধরনের মানুষকে কিন্তু শুনতে হয় না সরকারের টাকা নাই |

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কখনোই ফান্ডের ক্রাইসিস থাকে না | বা থাকলেও জনগনের কাছ

থেকে আদায় করে সেই ক্রাইসিস মেটাতে হয় | যেমন সামরিক খাতে, যেমন বিদেশী

কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে জালানি কিনতে, যেমন বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন করার মত অনুৎপাদনশীল খাতে, যেমন একটি বিমান বন্দর থাকা সত্তেও আরেকটি বিমান বন্দর তৈরি করতে, যেমন সেনাবাহিনীর জন্য আবাসন প্রকল্প নির্মাণে |

 

২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর “জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও

পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ”-এর উদ্দেশ্যে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন”-এর মাধ্যমে সরকারি জগন্নাথ কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশ্বাস প্রদান করা হয় | সেই সময় আর্টিক্যাল ৫ এ “ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জন্মস্থান এবং শ্রেণীর কারণে কাহারও প্রতি কোন বৈষম্য করা যাইবে না” লিখা হলেও ঐ আইনেরই আর্টিক্যাল ২৭(৪) এ বলা হয়: “বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হইবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় যোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বত্সর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উত্স হইতে বহন করিতে হইবে৷”।

নিম্নবিত্ত ছাত্ররা এই ব্যয় কীভাবে বহন করবে আর কীভাবেই বা এই শিক্ষাব্যাবস্থা কে বৈষম্যহীন বলা যেতে পারে?

 

জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবার একি বক্তব্য শিক্ষা তাদের অধিকার, শিক্ষা বানিজ্যিক পন্য নয় | তারা সবাই বর্ধিত বেতনের ভুক্তভোগী | তাদের সবার মুখে একই অভিব্যাক্তি – মিছিল ছাড়া কোথায় দাঁড়াবে তারা ?

 

পরশু সকালে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলাম | সেখানে দেখলাম একটি সাইনবোর্ডে লেখা বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য শিক্ষা ঋণ দেওয়া হয় | মনে পরে গেল লন্ডনে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রের কথা। ছেলেটি আমার পাশে বসে লন্ডন থেকে ঢাকা আসছিল। লম্বা পথ তার সাথে গল্প করতে করতে জানতে পারলাম কি ভাবে ঋণ নিয়ে পড়তে যেয়ে বাংলাদেশী ছাত্ররা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ইংল্যান্ডে। অনেক ছাত্র আছে যারা ঠিক মত ইংরেজি শেখার সুযোগ পায়নি কখনো কিন্তু মাদ্রাসা থেকে পাশ করে ইংল্যান্ডে গেছে সুশিক্ষার আশায়। তারা সেখানে যেয়ে বিনা পয়সায় বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে কাজ করছে শুধুমাত্র একটু থাকার যায়গা ও খাবার পাওয়ার জন্য। এই সুযোগ তাদের জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। কারন এই সুযোগটুকুও এখন দুর্লভ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের শ্রমবাজারে এত বেশি ছাত্র বেড়ে গেছে যে এখন এইটুকু সুযোগও কেউ পাচ্ছে না। কিন্তু যদি ধরে নেই যে এই কষ্ট করে আসা ছাত্রটি দেশে এসে খুব ভাল একটা চাকরী পাবে তাহলে সমস্যা ছিল না। এই মানের একটি ছাত্র শেষ পর্যন্ত এসে তার বহু আকাংক্ষিত চাকরিটি পাচ্ছে কি? যেই আশা আকাঙ্খা নিয়ে সে অজানা পথ পাড়ি দেয় তার বেশিরভাগ তার ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাহলে কিসের জন্য এত কষ্ট। কে তাদের এই স্বপ্ন দেখায়?

গতকাল এক অবসরে টেলিভিশন দেখার সুযোগ হয়েছিল। খবরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মায়েদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বেশিরভাগ মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে একটা কথাই বার বার বলছেন যে পাবলিকবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ না পেলে কীভাবে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ দেবেন। শঙ্কিত মায়েদের কথা শুনে মনে পরে গেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মুখ। একটু আগে দেখে এসেছি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হতে যেই ছাত্রদের তাদের মায়েদের মুখগুলি দেখতে এখন কেমন?

পুজার ছুটি শুরু হচ্ছে সামনেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের নানান প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার রাত ১১ টায় যখন শাহবাগ থানার পাশ দিয়ে যাচ্ছি তখন দেখি ছোট ছোট জটলা করে

দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী যুবক। জানতে পারলাম অনলাইন ব্লগার কমিউনিটি বিকাল থেকে

সমাবেশ করছে, এবং রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব ধরনের, সব বয়সের, সব পেশার মানুষ

সারাদিন ধরে জমায়েত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের পাশে দাঁড়িয়েছে সব ধরনের মানুষ। কোন না কোন ভাবে আমাদের দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতা বোধ থেকে একত্রিত হচ্ছে এবং এই ধরনের সমস্যাগুলো তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

 

শিক্ষা বানিজ্যিকিকরনের দুর্ভোগ অনুভব করতে শুরু করেছে সর্বস্তরের মানুষ। সরকারের এক

লক্ষ্য যুক্তি থাকতে পারে শিক্ষা ব্যাবস্থা বানিজ্যিকিকরনের পিছনে। বেতন বাড়ানোর পিছনে আজকে সহস্র কারন দেখাতে পারে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই সরকারের সময়ে শুধু নয়, কোন সরকারের সময়েই বানিজ্যিকিকরনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায়নি কোন সরকারকে। কোন সরকারের কোন যুক্তি, পৃথিবীর কোন দাতা সংস্থার কোন পরামর্শই টিকে থাকতে পারে না

দেশের ছাত্রদের ভোগান্তির কাছে।

 

প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহন করে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট ও বৈচিত্র নিয়ে। সামর্থ্য থাকা না থাকা শিক্ষা

অর্জনের পূর্বশর্ত হতে পারে না। সব ধরনের লাভ, ক্ষতি, যুক্তি, তর্ক ভেদ করে বিকশিত

হয় মানব সত্তা। আর শিক্ষা বানিজ্যিকিকরনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথে

অন্তরায় তৈরি করে, স্বাভাবিক বৈচিত্র্য নষ্ট করে যেই সভ্যতা সেই সভ্যতা শুধু দাস তৈরি করতে পারে। আর কিছু পারে না। আজকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা সর্বস্তরের মানুষ বুঝতে পারছে তাদের অন্তহীন দাসত্ব কীভাবে তাদের অক্ষম করে দিচ্ছে।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আজকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেছে। এর মানে এই নয় যে তাদের দাবী মেনে নেওয়া হয়েছে । শিক্ষা বানিজ্যিকিকরন সম্পর্কিত সব আইন যতদিন বাতিল না হবে ততদিন আজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন শুরু হলে, কালকে শুরু হবে অন্য

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সকল ধর্মের, সকল শ্রেণীর ছাত্রদের পাশে দাড়িয়ে এই দেশের মানুষ জানান দিতে চায় যে জনগন এই শিক্ষা বানিজ্যিকিকরন চায় না। মানুষ এই অন্তহীন ভোগান্তি চায় না। মানুষ তার নিজস্ব বিকাশের পথে কোন বাধা দেখতে চায় না। মানুষ সংঘবদ্ধ হতে চায়। মিছিলে ছাড়া কোথায় দাঁড়াবে তারা?

 

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-এর অর্থনীতির

প্রভাষক।

 

 

 

  •         >>> অবশেষে যে খবরটি আমাদের সবার মনে আনন্দের স্রোতোধারা বইয়ে দিলো, এবং আমাদেরকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে নিলো, সেই খবরটি এইরকম==>

 

Pavel Rahman =

 আন্দোলনরত বন্ধুরা, এবং কাল যারা আমাদের সাথে ছিলে, তাদের জন্য সুসংবাদঃ

সাজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে...! 

Sajan Pashi =

Thanks dosto.

Mizanur Mahi =

সাজনের ছাড়া পাওয়া উপলক্ষ্যে সংবর্ধনায় সাজনকে কয়ডা ছারপোকা গিফট দিলে কেমন হয় ?

সাজন পাশি =

হায় হায়!! থাক, আমার সংবর্ধনা লাগবে না...!! :)

 

 

 

  •         >>> অবশেষে আমাদের উপাচার্যের টনক নড়লো বোধহয়==>

 

"প্রথম আলোর বিরুদ্ধে জবি উপাচার্যের মামলার হুমকি'

জবি করেসপন্ডেন্ট

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দৈনিক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন জগন্নাথ

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

 

রোববার বেলা ১২টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি দেন।

‘তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি নয়’ শিরোনামে প্রতিবেদনে প্রথম আলো বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে উল্লেখ করেন।

ড. মেজবাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে ‘এমন’ রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রথম আলো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয়

ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলন করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

 

এর আগে এক লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে দ্রুত যোগাযোগ করে অচিরেই তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করেও উপস্থাপন করবে বলে জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একমত। তাছাড়া ২৭ (৪) ধারা আইনটি বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্য নয়। তাই দিনের পর দিন সরকারের বরাদ্দও বাড়ছে।

 

শিক্ষার্থীদের হল সম্পর্কে তিনি বলেন, অচিরেই হাবিবুর রহমান হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু ছেলের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

 

শূন্য থেকে শুরু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ বছরের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পরিবহন সমস্যা সমাধান, ক্যান্টিনে ভর্তুকি, দারিদ্র্য শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি সহয়াতা

প্রদান করা হবে।’

সাংবাদিকদের মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মামলাটি করেছে। মামলাটি উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

২৭ (৪) ধারা বাতিলে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধারাটি বর্তমানে প্রয়োগ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত শিক্ষামন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।’

 

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর, প্রক্টর ড. অশক কুমার সাহা ও বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা।

এখনও আমরা অপেক্ষায় রয়েছি ভাল একটা জবাবের আশায়........

 

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ০২, ২০১১

 

 

  • >>> At the end,...... after 1 breathtaking year, we achieved our JOY......>

 

Thank you, honorable Prime Minister Sheikh Hasina, Thank you Jagannath University and thank you to my brothers & sisters who stayed with us.

 

 

Govt to fund JnU: PM

Prime minister Sheikh Hasina has said the clause about financing in the Jagannath University Act -2005 will be amended to make it clear that the government will continue to fund its academic activities. UPDATES

 

Published : 05 Oct 2011, 08:22 AM

Dhaka, Oct 05 (bdnews24.com) —Prime minister Sheikh Hasina has said the clause about financing in the Jagannath University Act -2005 will be amended to make it clear that the government will continue to fund its academic activities.

The original funding rule, Article 27 (4) of the Act, stipulates that the university will have to generate its own revenue to run its academic activities -- a provision that had angered the students who then resorted to street protests from Sep 25 demanding that authorities repeal it.

The students say the university increased their semester fees from Tk 3,500 to Tk 20,000 to raise its internal revenue and were on their fourth day of protests when the university authorities decided to advance the Puja holidays and ordered the university shut from Sep 29 until Oct 6.

The prime minister on Wednesday cleared her administration's position over the disputes when a JnU delegation led by its vice chancellor Mesbahuddin Ahmed met her.

The prime minister's press secretary Abul Kalam Azad quoted the premier as saying that the government would continue funding the university like it does other public universities.

 

<< THE END >>

 


Comments


  • LinkedIn
  • Facebook
  • Twitter

©2018 BY SK. SALAH UDDIN NOOR

bottom of page